

আব্দুল বাছিত খানঃ
পবিত্র ঈদুল আযহার টানা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা। টিলাঘেরা সবুজ চা বাগান, বন-বনানী আর লেকের স্বচ্ছ পানির মিতালি দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন এই জনপদে।
উপজেলার প্রতিটি পর্যটন স্পট—লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, হামহাম জলপ্রপাত এবং মাগুরছড়া ও ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল থেকেই পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণপিপাসুদের ঢল নামে। এদের মধ্যে পরিবার-পরিজন ও দম্পতিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং টানা ছুটি পাওয়ায় গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার পর্যটকদের ভিড় অনেক বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
পর্যটকদের এই উপচেপড়া ভিড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যটন স্পটে টহল দিচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সজাগ অবস্থানে রয়েছেন।
কমলগঞ্জের মাধবপুর চা বাগান ও পদ্মছড়া লেকের প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের বিশেষভাবে বিমোহিত করছে। পাহাড়ের ওপর সবুজ চা গাছ, লেকের স্বচ্ছ পানিতে দুর্লভ বেগুনি শাপলার আধিপত্য এবং ছায়া নিবিড় পরিবেশ আনন্দের বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। এছাড়াও শমসেরনগর বাগীছড়া লেক ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ যাদুঘরেও দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা কিছুটা দুর্গম হওয়ায় হামহাম জলপ্রপাতে ভিড় তুলনামূলক কম ছিল।

0-4064×3048-0-0-{}-0-24#bokehtype:0#;ts:230416941418000;appts:1780054983492;qlty:1;;illum:2 scene:21 humanIn:0;
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে আসা পর্যটক আমজাদ হোসেন তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ বন। এখানকার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর জীববৈচিত্র্য যে কারো মন জুড়িয়ে দেবে।”
আরেক পর্যটক মাওলানা আবুল কালাম আযাদ জানান, “এখানে এসে আমার খুবই ভালো লাগছে। বানরের লাফালাফি, বড় ব্যাঙের ছাতা এবং একসাথে এত গাছ দেখে আমি মুগ্ধ। তাছাড়া শহীদ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ ও লেকের পানি দেখে মন আর বাড়ি ফিরতে চাইছে না। সুযোগ পেলেই আমি আবারও এখানে আসবো।”

0-0x0-0-0-{}-0-0#bokehtype:0#;illum:5 scene:29 humanIn:3;
সংশ্লিষ্টদের মতে, আবহাওয়া এমন থাকলে ঈদের পরবর্তী অন্তত সাত দিন পর্যন্ত পর্যটকদের এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। পর্যটন নগরী কমলগঞ্জ এখন ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় এক উৎসবমুখর জনপদে পরিণত হয়েছে।
Comments are closed.







