

মুস্তাকিম আল মুনতাজ: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন ভৈরবগঞ্জ বাজারে প্রকাশ্যে পোষ্য হাতি দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও লোকালয় থেকে নগদ টাকা তুলে চাঁদবাজি করছেন এক হাতির মাহুত। আইনীভাবে হাতি দিয়ে এসব অবৈধ কাজ নিষিদ্ধ থাকলেও বিভিন্ন মালিকানাধীন হাতির মাহুতরা তা তোয়াক্কা না করে প্রায় সময় বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে এসব চাঁদবাজি করে আসছেন। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ লোকজন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন ৫নং কালাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ভৈরবগঞ্জ বাজারে হাতি দিয়ে উচ্চস্বরে গর্জন দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পথচারিদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে নগদ টাকা উত্তোলন করছে হাতির মাহুত। হাতির উচ্চ শব্দে অনেকে ভয়ে দ্রুত টাকা দিয়ে থাকেন মাহুতের কাছে। প্রতিটি দোকান থেকে সর্বনিম্ন ১০ টাকা দিতে হয় মাহুতের কাছে। কোনো কোনো দোকানে হাতি যেতে না চাইলে ধারালো লোহাযুক্ত লাটি (পুলি) দিয়ে মাহুত তাকে আঘাত করলে হাতি বাধ্য হয়ে সেইসব দোকানে গিয়ে বিকট শব্দ করে শুড় দিয়ে টাকা এনে মাহুতের হাতে দেয়।
এভাবে হাতি দিয়ে টাকা তুলে একেক বাজার থেকে মাহুতের ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা হয়ে যায়। এব্যাপারে হাতির মাহুতকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, হাতির খাবার জোগাড় করার জন্যই মূলত টাকা উত্তোলন করি। অথচ হাতির প্রধান খাদ্য হচ্ছে জঙ্গলের গাছপালা ও ফলমূল। হাতি দিয়ে টাকা তুলে চাঁদাবাজি করার জন্য নয়। এভাবে যদি কোনো হাতির মাহুত টাকা তুলে মানুষকে হয়রানি করা আইনতঃ অপরাধও বটে।
মাহুতের এমন কার্যকলাপের বিষয়ে বাজারে আগত শ্রীমঙ্গলের আর.এস টি সাপ্লাই এর সত্ত্বাধিকারী মোঃ সাজেদুর রহমান-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত বিভিন্নস্থানে হাতির মাহুতেরা হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি করে থাকে৷ যা রীতিমতো বিরক্তিকর। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।








Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.