

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আলেম সমাজকে রাষ্ট্রের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে ক্বওমী মাদরাসার প্রচলিত সিলেবাসে আধুনিক বিষয়ের সমন্বয় এবং সরকারি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। ক্বওমী মাদরাসার স্বকীয়তা বজায় রেখেই ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা কুরআন-সুন্নাহ ও শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পূর্ণ বৈধ ও যৌক্তিক।
আজ এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স-এর কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা আবু হানিফা।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনের প্রথম নির্দেশ ‘ইকরা’ বা ‘পড়ো’—এর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আসমান-যমীনের সৃষ্টিরহস্য ও বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার নির্দেশ স্বয়ং আল্লাহ দিয়েছেন। এছাড়া রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবী জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-কে ভিনদেশি ভাষা শেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন দ্বীনি ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে। বর্তমান বিশ্বে ইংরেজি ও আধুনিক বিজ্ঞান হলো সেই ‘ভাষা’ বা ‘কৌশল’, যা ছাড়া ইসলামের দাওয়াত বিশ্ব দরবারে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।
মাওলানা আবু হানিফা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমানে ক্বওমী মাদরাসায় একাধিক বোর্ড (বেফাক, তানজিম, হাইয়্যা) বিদ্যমান থাকায় এক ধরনের সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে। এই সার্টিফিকেট দিয়ে শিক্ষার্থীরা সরকারি বা বেসরকারি কোনো চাকরিতেই যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। পর্যাপ্ত বেতন ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে তরুণ আলেমদের ভবিষ্যৎ আজ হুমকির মুখে। নীতিনির্ধারকরা শিক্ষার্থীদের জীবনকে একটি সীমাবদ্ধ গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখার যে ‘বোর্ড-ফাঁদ’ তৈরি করেছেন, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের উৎস ‘কিয়াস’ এবং ‘জনকল্যাণ’ (মাসলাহাত)-এর ভিত্তিতে মাদরাসা শিক্ষায় সংস্কার আনা জরুরি। এতে আলেমগণ কেবল মসজিদের মিম্বর নয়, বরং সচিবালয়, আদালত ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারেও ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।
বিবৃতির শেষে তিনি তিনটি দাবি উত্থাপন করেন:
১. ক্বওমী সিলেবাসে আধুনিক বিষয়সমূহের কার্যকর অন্তর্ভুক্তি।
২. পৃথক বোর্ডগুলোর পরিবর্তে সরকারি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একক ও অভিন্ন পরীক্ষা পদ্ধতি চালু।
৩. ক্বওমী সনদের মান বৃদ্ধি করে সরকারি চাকরিসহ সব ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তরুণ প্রজন্ম আজ সচেতন। নিজের অধিকার আদায়ে তারা আর আপোষ করবে না। দ্রুত এই সিস্টেম পরিবর্তন করে আলেম সমাজকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে বেফাক, হাইয়্যা ও সরকারি নীতি-নির্ধারকদের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।








Leave a Reply