

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভপুর উপজেলা-এ ‘দেশের নেতৃত্বে, জনগণের শক্তিতে, আমরাই পারবো যক্ষ্মা নির্মূল করতে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার (আজ) সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি SMC)-এর কারিগরি সহযোগিতা ও অর্থায়নে সীমান্তিক কমিউনিটি মোবিলাইজেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্বম্ভপুর উপজেলা সুপারভাইজার মো: মিসবাহুর রহমান চৌধুরী। সভায়
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, যক্ষ্মা বা Tuberculosis (টিবি) এখনও বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক রোগ হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে এই রোগের প্রভাব এখনও উল্লেখযোগ্য। তবে সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ এবং নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।
তারা আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ২৪ মার্চ World Tuberculosis Day পালন করা হয়। এই দিনটি যক্ষ্মা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগটি নির্মূলে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ নতুন করে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় চিকিৎসা সেবার পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ এবং ডটস (DOTS) পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা রোগ নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
চিকিৎসকদের মতে, যক্ষ্মার প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—দীর্ঘদিন কাশি (দুই সপ্তাহের বেশি), বিকেলের পর জ্বর, খাবারে অরুচি এবং ওজন কমে যাওয়া। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, যক্ষ্মা মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা, বাসস্থান পরিষ্কার রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তারা বলেন, যক্ষ্মা নির্মূলে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে পারলেই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
শেষে বক্তারা বলেন, “যক্ষ্মা ভয় নয়—সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসাই পারে এই রোগকে পরাজিত করতে।”
Leave a Reply