

অগ্রযাত্রা সংবাদ ডেস্ক:শিক্ষার মান উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। যা দেশের সরকার ,শিক্ষক,অভিভাবক ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। জাতীয় জীবনে সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো শিক্ষা । ব্যক্তির পরিবর্তিত আচরণের মাধ্যমে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন হলে তাকেই আমরা শিক্ষা বলতে পারি । আর শিক্ষার মান উন্নয়ন বলতে শিক্ষায় গুণগত মান নিশ্চিতকরণকে বুঝায়। শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রধান উপাদান হলো শিক্ষক,শিক্ষার্থী,অভিভাবক,শিক্ষাক্রম,শিখন-শিক্ষণ পদ্ধতি,উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ইত্যাদি। এসব বিষয়ের কোন একটি উপর অধিক নির্ভর আশানুরুপ অর্জন সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন উপাদান সমুহের সম্মিলিত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা । শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকরণ ,সনাতন পদ্ধতির সাথে প্রযুক্তির সুবিধা সংযুক্তকরণ,শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি,বেতন কাঠামো বৃদ্ধি মান সম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারিনি। বর্তমান সময়ের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে সর্বপ্রথমে যে বিষয়টি প্রয়োজন তা হলো একটি সুস্থ দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ। অপরিকল্পিত শিক্ষানীতি ও কারিকুলাম পরিবর্তন,অসুস্থ প্রতিযোগিতা শিক্ষার মান উন্নয়নে বড় অন্তরায়। যা পুরু শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রজন্মের ভবিষৎকে ধংশ করে দেয়। মান সম্মত শিক্ষা অর্জনে্র ধারাবাহিকতায় প্রথমতঃ সরকার দীর্ঘমেয়াদী সুস্পষ্ট শিক্ষানীতির মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা উপযুগি পাঠ্যক্রম প্রনয়ণ,প্রযুক্তির ব্যহার,শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার মাধ্যমে মান সম্মত শিক্ষা অর্জন সম্ভব। অন্য দিকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্বেও শিক্ষাখাতে প্রতি বছর বাজেটে যে পরিমান অর্থ বরাদ্দ তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল অপর্যাপ্ত,যা ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেরশের মতো উন্নয়নশীল দেশে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ৭ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। দ্বিতীয়তঃ শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠান হচ্ছে শিক্ষার মনোন্নয়নের কেন্দ্র বিন্দু। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আসে। তাই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ,রূটিনমাফিক পাঠদান,প্রতিষ্ঠানের ICT সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা,নিয়মিত মনিটরিং,অভিভাবক সচেততার জন্য অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন,হোম ভিজিট করা,ইত্যাদি ছাড়াও বিদ্যালয়ের নানা সহশিক্ষা কার্যক্রম খেলাধুলা,স্কাউটিং,বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করানো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ও গুণগত শিক্ষা উন্নয়নে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে। তৃতীয়তঃ আমরা জানি,শিক্ষায় জাতির মেরুদন্ড ,আর শিক্ষার মেরুদণ্ড শিক্ষক। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকের ভূমিকা সর্বাধীক অগ্রগণ্য। একজন মান সম্মত শিক্ষক তার শিক্ষা দান পদ্ধতি ও দক্ষতায় শিক্ষার্থীর জ্ঞান লাভ,নৈতিক ও মূল্যবোধ শিক্ষা অর্জনে যথেষ্ঠ ভূমিকা রাখে। শিক্ষক তার যথাযথ পাঠদান,নিজস্ব কৌশল ও নৈপুণ্যের উপরেও মান সম্মত শিক্ষা নির্ভর করে। একি সাথে এর বিনিময় শিক্ষকদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের তদারকি তৎপরতায় শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। চতুর্থতঃ একটি শিশুর লেখাপড়ার ভীত রচনা হয় পরিবার থেকে। শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবক বা পরিবারের ভূমিকা অপরিহার্য। কারণ শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার পরিবেশ সৃষ্টির সাথে তাদের নিয়মিত তদারকি,প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ ও পারিবারিক মূল্যবোধ ,শিক্ষা ও নৈতিকতার প্রতি সুদৃষ্টি রাখা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পঞ্চমতঃ শিক্ষার মানোন্নয়নে সবচেয়ে সক্রিয় উপাদান হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। যাদের জন্য এত কিছু সেই শিক্ষার্থীরাই আজ লেখাপড়ার প্রতি উদাসীন। পূর্বেকার তুলনায় আজ লেখাপড়ার প্রয়োজনীয় উপকরণের সহজলভ্যতা অধিক। বর্তমানের সময়ের প্রযুক্তির ছোয়ায় শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুবিধা থাকার পরেও শিক্ষার গুণগত মান আশানুরুপ নয়,কারণ প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহার,লেখাপড়ার প্রতি অনীহা,জ্ঞান চর্চা্ ও অধ্যবসায়ের অভাব ইত্যাদির কারনে মানসম্মত শিক্ষা অর্জিত হয়নি। এ জন্য প্রয়োজন ধর্মীয় নৈতিকতা চর্চা,নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি,সক্রিয় অংশগ্রহণ,অভিভাবক,শিক্ষকের উপদেশ গ্রহণ ও পাঠের প্রতি কৌতুহলি মনোভাব ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন নিদিষ্ট লক্ষ্যে উন্নীত করা সম্ভব । পরিশেষে দেশের আপামর শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত মান উন্নয়নে সকলের সম্মিলিত চেষ্টা ও সহযোগিতায় আগামীর বাংলাদেশে একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে উঠুক সেই প্রত্যাশা।
লেখক ও প্রবন্ধকার
মোঃ ফরিদ মিয়া
মাস্টার্স(ইকোনমি),বিএড,এমএড(ফাস্ট ক্লাস)
সিনিয়র শিক্ষক,কালী প্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়,
মুন্সীবাজার,কমলগঞ্জ,মৌলভীবাজার
Comments are closed.







