
মানুষ জন্ম নেয় খালি হাতে, আবার পৃথিবী ছেড়ে যায় খালি হাতেই। মাঝখানের এই অল্প সময়টুকুতে সে সম্পদ, ক্ষমতা, খ্যাতি ও পরিচয়ের পেছনে ছুটতে ছুটতে অনেক সময় মানবিকতা ভুলে যায়। অহংকার তাকে অন্ধ করে দেয়। সে মনে করে তার পরিচয়, তার অবস্থান, তার প্রভাব—এসবই চিরস্থায়ী। কিন্তু মৃত্যু এসে এক মুহূর্তেই সেই ভুল ধারণাকে ভেঙে দেয়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, যেদিন একজন মানুষ মারা যায়, সেদিন তার নামটিও যেন হারিয়ে যায়। যে মানুষকে গতকাল সবাই নাম ধরে ডাকত, সম্মান করত কিংবা ভয় করত, আজ তাকে বলা হয়—“লাশটা কোথায়?”, “লাশটা নিয়ে আসো”, “লাশটা দাফন করতে হবে।” তখন আর কেউ তার পদবি, সম্পদ কিংবা ক্ষমতার কথা মনে রাখে না। এটাই জীবনের নির্মম অথচ চিরন্তন সত্য।
অহংকার মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি মানুষকে বিনয় থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং অন্যকে ছোট করে দেখতে শেখায়। অথচ মৃত্যুর কাছে সবাই সমান। রাজা-প্রজা, ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান-ক্ষমতাহীন—কেউ মৃত্যুকে এড়িয়ে যেতে পারে না। শেষ পর্যন্ত সবার ঠিকানা হয় কয়েক হাত মাটি।
তাই এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে অহংকার নয়, বিনয়, সততা, ভালোবাসা ও মানবিকতাই হওয়া উচিত আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। মানুষের হৃদয়ে যে সম্মান অর্জিত হয়, সেটিই মৃত্যুর পরও স্মৃতিতে বেঁচে থাকে। সম্পদ কিংবা ক্ষমতা নয়, মানুষের জন্য করা ভালো কাজই একজন মানুষকে সত্যিকার অর্থে অমর করে রাখে।
উপসংহার:
জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—একদিন আমাদের সবার নামের পরিবর্তে “লাশ” শব্দটিই উচ্চারিত হবে। তাই অহংকার করে নয়, বিনয় ও মানবিকতার সঙ্গে জীবন কাটানোই প্রকৃত জ্ঞানীর পরিচয়। কারণ পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী নয়; স্থায়ী শুধু মানুষের কর্ম, চরিত্র এবং রেখে যাওয়া সুন্দর স্মৃতি।
তারিখ ৯/৮/২০২৬ইং
লেখক
মোঃ বদরুল ইসলাম
কমলগঞ্জ,
মৌলভীবাজার,
সিলেট।