
শায়েক আহমদ, মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারে শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচালিত ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ৬ষ্ঠ ব্যাচের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের বাস্তবায়নে পরিচালিত এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ৭৫ জন প্রশিক্ষণার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের মৌলভীবাজার শাখা কার্যালয়ে ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের মৌলভীবাজার শাখার কো-অর্ডিনেটর মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং ট্রেইনার সজিব আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরহাত নূর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের কো-অর্ডিনেটর নূর উদ্দীন। এছাড়া জাতীয় দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি শায়েক আহমদসহ ৬ষ্ঠ ব্যাচের তিনটি শাখার ৭৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৭৫ জনের মধ্যে প্রায় ৬০ জন ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে ১০ থেকে ২৫০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হয়েছেন, যা প্রকল্পটির কার্যকারিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরহাত নূর বলেন, চলমান ব্যাচে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থী ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় শুরু করেছেন, যা প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের প্রমাণ। এ অর্জনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষক, সমন্বয়কারী ও প্রশিক্ষণার্থীদের অভিনন্দন জানান।
তিনি আরও বলেন, অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত অনলাইনভিত্তিক কাজের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি জেলার শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সরকারের এ উদ্যোগ জেলার কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ৬ষ্ঠ ব্যাচের সফল ৭৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।