

অগ্রযাত্রা সংবাদ ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যা ১৯২১ সালের ১জুলাই যাত্রা শুরু করে। ১৯০৫সালের বঙ্গভঙ্গ রদের (১৯১১) ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে, যা ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ নামে পরিচিত। মুসলিম ছাত্রদের জন্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ১৯২০সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনবলে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস:
প্রতিষ্ঠার দাবি: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদের পর পূর্ব বাংলার জনগণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এবং এই অঞ্চলের মুসলিম জনগোষ্টীর শিক্ষাবিস্তারে ১৯১২ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহসহ অন্যান্য নেতারা লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান।
প্রতিষ্ঠা: ১৯২০ সালে ভারতীয় আইনসভায় ‘The Dacca University Act 1920’ পাস হয় এবং ১৯২১ সালের ১ জুলাই কার্যক্রম শুরু হয়
শুরুর সময়: শুরুতে তিনটি অনুষদ (Arts, Science, Law) এবং ১২টি বিভাগ নিয়ে এটি যাত্রা শুরু করে। প্রথম উপাচার্য ছিলেন ফিলিপ জোসেফ হার্টগ (P.J. Hartog)।
ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল: ঢাকার রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জায়গায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়, যার প্রথম নিদর্শন কার্জন হল। শুরুর সময়ের তিনটি হল ছিল—সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, জগন্নাথ হল ও ঢাকা হল।
ঐতিহাসিক অবদান: এই বিশ্ববিদ্যালয়টি কেবল শিক্ষা প্রদান নয়, বরং ১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে।
বর্তমানে এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু এবং একটি শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৭১সালের পরে স্বাধীনতার পরে আস্তে আস্তে এই বিশ্ববিদ্যালয় সেকুলারদের হাতে চলে যায়। তারা মুসলিম শব্দ বাদ দেয় সলিমুল্লাহ হলের এবং ইকরা বিসমি রাব্বি কাল লাজি খালাক কোরআনের আয়াত বাদ দেয় । এভাবে নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠা হয়। এবং মুসলিমদের কাছ থেকে হাত ছাড়া হয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর নাম থেকে “মুসলিম” শব্দটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ১৬ জুন ১৯৭২ সালে। তবে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আবার নামগুলো পুনর্বহাল করা হয় । “ইকরা বিসমি রব্বি কাল লাজি খালাক” স্লোগানটি হলগুলোর নামের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা এবং পরে বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
সারসংক্ষেপ:
নাম পরিবর্তন: ১৬ জুন ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট হলের নাম থেকে “মুসলিম” শব্দ সরিয়ে দেয়।
পুনর্বহাল: পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ায় নামগুলো আবার “মুসলিম হল” হিসেবেই পরিচিতি পায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পুনরুদ্ধার করার।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনার বাতিঘর। ছাত্র ইউনিয়ন বাম রা আজ সাম্প্রদায়িক চেতার মূল আখরায় রুপান্তর করে। অবাধ যৌনাচার এবং সমকামীতা আর মাদকের আড্ডায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জন্ম হয়। বামপন্থী ও প্রগতিশীল মতাদর্শের এই ছাত্র সংগঠনটি ভাষা আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ভাষা সৈনিক ও তরুণ ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে ঢাবিতে সুসংগঠিত হয় এবং ডাকসুসহ (DUCSU) বিভিন্ন হল সংসদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে-
প্রতিষ্ঠা: ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক ধারার ছাত্র সংগঠন হিসেবে ১৯৫২ সালের ২৬ এপ্রিল ছাত্র ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়
নেতৃত্ব ও বিকাশ: শুরুতে অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং শিক্ষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।
ডাকসুতে প্রভাব: ১৯৫৩ সালে ডাকসু (Dhaka University Central Students’ Union) নতুন আঙ্গিকে পুনর্গঠিত হওয়ার পর, ছাত্র ইউনিয়ন তার প্রগতিশীল ধারার রাজনীতি চর্চা শুরু করে
বিশেষত্ব: ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন এবং পরবর্তী বিভিন্ন আন্দোলনে ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ (যেমন রাশেদ খান মেনন, মতিয়া চৌধুরী) অগ্রণী ভূমিকা রেখে ঢাবিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে।
কর্মসূচি: ঢাবিতে তারা শুধু রাজনীতি নয়, বরং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় ছিল।
মূলত, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের আদর্শকে ধারণ করে এবং বামপন্থী মতাদর্শের অনুসারী হিসেবে ছাত্র ইউনিয়নের যাত্রা শুরু হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর নাম থেকে “মুসলিম” শব্দটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ১৬ জুন ১৯৭২ সালে। তবে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আবার নামগুলো পুনর্বহাল করা হয়। “ইকরা বিসমি রব্বি কাল লাজি খালাক” স্লোগানটি হলগুলোর নামের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা এবং পরে তা বাদ দেওয়া হয়।
সার সংক্ষেপ: * নাম পরিবর্তন: ১৬জুন ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট হলের নাম থেকে “মুসলিম” শব্দ সরিয়ে দেয়।
পুনর্বহাল: পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ায় নামগুলো আবার অবশ্য প্রতিস্থাপন হয়। মুলত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার হয়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আর এই সুযোগ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরে বাম নাস্তিকরা কাজে লাগিয়ে মুসলিম বিদ্বেষ মুলত শিক্ষার প্রসার ঘটায়। চারুকলা ইনিস্টিউট উদচী এই বেহাপনা এবং সেকুলার নাস্তিক্যবার জনক বলা যায়। আস্তে আস্তে গাজা মদ সহ ব্যাপক অনিয়মের সাথে জড়িয়ে যায়। মাদ্রাসা ভিত্তিক ভর্তি জটিল করে বাংলা ডিপার্টমেন্ট মুক্ত চিন্তার নামে ইসলাম বিদ্বেষমূলক বিভিন্ন কার্যকলাপ শুরু করে। এখন অবশ্য মাদ্রাসা ভিত্তিক ভর্তি অনেক সুগম হয়েছে। তাই সময়ের দাবী এই বিশ্ববিদ্যালয় যে আশা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করা হয়েছিল তা আবার বাস্তবায়নের জন্যে কাজ করতে হবে। এখানে যে অমুসলিমরা পড়বে না তা কিন্ত নয় ইসলাম সকল ধর্মের মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সহ অবস্থান নিশ্চিত করে। ইসলামের দুষমনি হল অনিয়ম নাস্তিক্যবাদ নেশা মুক্তি চিন্তার নামে ধর্মীয় আঘাত।
লিখেছেন,মতিন বকশ: সমাজকর্মী এবং সাংবাদিক।